twitter

শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১১

নিজে বানান ডিজে গান, Remix করুন, নিজের কণ্ঠে গান গেয়ে সুর যোগ করুন।


যারা গান ভালবাসে তাদের জন্য একটি সুপার সফটওয়্যার হল Magix Music Maker Production Suite 18 যার বাজার মূল্য ৩৯৯ দলার=২৫,০০০+up টাকা।

প্রথমে সফটওয়্যারটি সম্পর্কে বলে নেই। সফটওয়্যারটি ব্যাবহার করে আপনি নিজের ইচ্ছা মত গানের সুর বানাতে পারবেন। এছারা যে কোন গানকে আপনি নতুন করে সাউন্ড যোগ করে DJ বানাতে পারবেন। এছারা আপনার নাম গানে যোগ করতে পারবেন। পুরনো দিনের গানকে আপনি নতুন ভাবে সাজিয়ে নিতে পারবেন। গান থেকে কথা বাদ দিয়ে শুধু সুর রাখতে পারবেন। এছারা আরও অনেক কিছু যা আপনি সফটওয়্যারটি ব্যাবহার করলে বুঝতে পারবেন।
সফটওয়্যারটির trail ডাউনলোড করুন সফটওয়্যারটির Official web site থেকে


|
==ডাউনলোড(350 MB)== 

এবং সফটওয়্যারটির patch বা licence এর জন্য ডাউনলোড করুন

==Patch/Crack/Licence==

মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০১১

Analogy সংগ্রহশালা-০১




     

Example:
APPLE : FRUIT
A.   Mango : Sweet     B. Forest : Tree
C.   Juice : Fresh         D. Rose : Flower
E.    Leaf : Grass
Solution :
1st step  : Apple একটি ফলের নাম এবং Fruit অর্থ ফল
2nd step : সুতরাং এদের মধ্যকার সম্পর্ক দাড়ায়Ñ Apple একটি Fruit (ফল)
3rd  step :
A.   Mango একটি sweet (মিষ্টি) নয় বরং Mango খেতে মিষ্টি
B.   Forest একটি Tree নয় বরং Forest হল অনেক গাছের সমাহার
C.   Juice একটি Fresh নয়
D.   Rose একটি Flower নয়
E.    Leaf একটি Grass নয়
Þ অর্থাৎ Correct Answer D. 
Analogy Question এর মাধ্যমে দুটি শব্দের মধ্যে অর্থগত মিল/সম্পর্ক (Relation) বের করতে হয়। প্রশ্নের শব্দ জোড়ার অর্থের মিল অনুযায়ী উত্তর থেকে একই রকম অর্থগত মিল/সম্পর্কের (Relation) শব্দজোড়া বের করতে হবে। মূলত: Analogy Question এর মাধ্যমে vocabulary intelligence  পরীক্ষা করা হয়। সেজন্য Analogy solve এর সময় শব্দের অর্থ (vocabulary) ও শব্দদ্বয়ের মধ্যকার সম্পর্ক (Relation) -এ দুইয়ের উপর জোর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে Analogy মুখস্থ নয়, অর্থ বুঝে solve করতে হবে ।

Analogy যেভাবে করতে হয় তার ব্যাখ্যা:

>Soldier এর কাজের যন্ত্র হচ্ছে Weapon (অস্ত্র)
>Courage (সাহস)এর প্রকার Virtue (গুন)
>Request (অনুরোধ)তীব্রতর হলে Demand (দাবী) হয়
>Stumble (হোচট) এর ফলে Fall (ভুপাতিত) হয়
>Disapproval (অননুমোদন) এর লক্ষণ হলো Frown
>Bird এর থাকার জায়গাকে Nest বলে
>Liar এর বৈশিষ্ট্য হলো Falsehood
>Caution এর অভাব হলো Reckless (বেপরোয়া)
>Flow (প্রবাহ) কে থামানো হয় Dam (বাধ) দিয়ে
>Library হলো Book এর জায়গা
>Kite (ঘুড়ি) উড়ানো হয় wind এর সাহায্যে
>Poem হলো Anthology কবিতা সংকলন এর অংশ
>Sleep এর অভাব হলো Insomnia (অনিদ্রতা)
>Pallar (ফ্যাকাশে) হলো color এর অভাব
>অতিরিক্ত Dampen করলে Saturate হয়
>Magazine এক প্রকার periodical (সাময়িকী)
>Book হলো অনেক pages এর সমষ্টি
>Volcano (আগ্নেয়গিরী) থেকে Lava বের হয়
>Synonym হলো একই প্রকার Meaning
>Audicious এর বিপরীত হলো Craven (ভীরু)
>Laconic (স্বল্পভাষী) এর বিপরীত হলো Voluble
>Indolent (অলস) লোক Work করে না
>Modest লোক Boast (গর্ব ) করে না
>Carpenter এর কাজের যন্ত্র Hammer
>Expel করা হয় School থেকে
>Banish (নির্বাসিত) করা হয় Country থেকে
>Election এ Voter রা অংশ নেয়
>Vindictive (প্রতিশোধপরায়ন) লোক Revenge চায়
>Ship কে আটকিয়ে রাখে Anchor
>oil থেকে Energy পাওয়া যায়
>Inelutable (অনিবার্য) কে Avoid করা যায় না
>Truth এর অভাব হলো Mendacity
>Timorous হলো Intrepid (সাহসী) এর বিপরীত
>Sculptor (ভাস্কর) Stone কেটে শিল্প কর্ম বানায়
>House তৈরি হয় Brick দিয়ে
>Mine (খনি) থেকে Ore (আকরিক) তোলা হয়
>Dictionary তে words আছে
>Geese এর ঝাকঁকে Gaggle বলে
>Incredible (অবিশ্বাস্য) কে Believe করা যায় না
>Activity এর অভাব হলো Torpid (অসাড়)
>Avaricious (লোভী) লোকের Generosity নাই
>Gregarious লোকের বহু Friends নাই
>Dog এর আওয়াজ হলো Bark (ঘে উ, ঘে উ)
>Sheep এর মাংসকে Mutton বলে
>Bear থাকার জায়গাকে Lair বলে
>Bay (উপসাগর) হলো Ocean এর চেয়ে ছোট
>cat এর শাবককে Kitten বলে
>স্ত্রী Dog কে bitch বলে
>Fireেএর পর Ash (ছাই পড়ে থাকে
>Intelligent এর বিপরীত হলো inane.

শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১১

আসুন সহজে পিসি-টু-পিসি LAN করি (পর্ব – ৬)

আজকের পর্ব : নেটওয়ার্ক সিমুলেশন সফটওয়্যার

আজকে আমি নেটওয়ার্ক সিমুলেশন সফটওয়্যার বা নেটওয়ার্ক সিমুলেটর নিয়ে আলোচনা করব। নেটওয়ার্ক সিমুলেটর কি এবং কেন ব্যবহার করব তা প্রথমে আমাদের জানা প্রয়োজন। বড় নেটওয়ার্ক তৈরীর ক্ষেত্রে প্রথমে যে জিনিষটি প্রয়োজন তা হচ্ছে একটি সুনির্দিষ্ট প্ল্যানিং/ডিজাইন যাতে নেটওয়ার্কটির বাজেট এবং বর্তমান ও ভবিষ্যত চাহিদার প্রতিফলন থাকবে। ডিজাইন তৈরী না করেই যদি নেটওয়ার্ক তৈরীর কাজে হাত দেয়া হয়, তাহলে পরবর্তীতে আপনাকে ধাপে ধাপে নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে যা সমধান করা অনেক ক্ষেত্রেই অসম্ভব বা প্রচুর আর্থিক ক্ষতির কারন হয়ে দাড়ায়।

শিক্ষার্থীদের জন্য নেটওয়ার্ক সিমুলেটর আরও গুরুত্বপূর্ন। বাংলাদেশের মত দেশে একজন নেটওয়ার্কিং শিক্ষার্থীর পক্ষে কাজ শেখার জন্য নেটওয়ার্কিং ডিভাইসগুলো সংগ্রহ করা এক কথায় অসম্ভব। ভাল কোন নেটওয়ার্কিং ল্যাবও নেই যেখানে হাতে কলমে প্রাকটিস করার সুযোগ আছে। তাই তাদের জন্য একটি উত্তম সমাধান এই সিমুলেটর, যেখানে তারা বাসায় কম্পিউটারে বসেই নেটওয়ার্কিং প্রজেক্ট তৈরী করতে পারবে এবং পরীক্ষা করে দেখতে পারবে যে তার নেটওয়ার্কটি সুষ্ঠভাবে কাজ করছে কিনা।

বর্তমানে বেশ কিছু নেটওয়ার্কিং সিমুলেটর পাওয়া যায়। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো এবং সহজে ব্যবহার উপযোগী সিমুলেটর হচ্ছে Packet Tracer, যা বিনামূল্যে আপনি নিচের ডাউনলোড লিংক থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

সফটওয়্যার ডাউনলোড লিংক : ক্লিক করুন।

ডাউনলোড হয়ে গেলে সফটওয়্যারটি সাধারন যে কোন সফটওয়্যারের মত ইন্সটল করুন।



ইন্সটলের পর সফটওয়্যারটি Open করলে উপরের উইন্ডোটি দেখতে পাবেন।

Packet Tracer ইন্টারফেস পরিচিতি :



উপরের ছবিটি লক্ষ্য করুন। ছবিটিতে আমি মোট ১০টি Component চিহ্নিত করেছি। এগুলোর প্রতিটির পরিচিতি নিচে দেওয়া হলো :

1. Menu Bar : এই Bar এ File, Edit, Options, View, Tools, Extensions এবং Help মেন্যু আছে। আপনি এখানে সাধারন commands যেমন : Open, Save, Print এবং Preferences ইত্যাদি পাবেন।

2. Main Tool Bar : এই মেন্যুতে গুরুত্বপূর্ন কমান্ডগুলোর shortcut icon দেয়া আছে। যেমন: Zoom, Drawing Palette, Device Template Manager, Network Information Button ইত্যাদি।

3. Common Tools Bar : এখানে সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত workspace tools গুলো দেয়া আছে। যেমন : Select, Move Layout, Place Note, Delete, Inspect, Add Simple PDU (সাধারন ডাটা প্যাকেট), and Add Complex PDU (অপেক্ষাকৃত জটিল ডাটা প্যাকেট)।

4. Logical/Physical Workspace and Navigation Bar : এর মাধ্যমে আপনি Physical Workspace এবং Logical Workspace এই দুটি মাধ্যমের মধ্যে toggle করতে পারবেন। Physical Workspace আপনাকে একটি physical location তৈরী করতে সাহায্য করবে। যেমন : একটি New City, একটি New Building, একটি New Closet ইত্যাদি। আমরা সাধারনত নেটওয়ার্ক তৈরীর জন্য Logical Workspace ব্যবহার করব।

5. Workspace : এটিই হচ্ছে আসল অংশ যেখানে আপনি নেটওয়ার্কটি তৈরী করবেন। আপনি নেটওয়ার্কটির সিমুলেশন এবং বিভিন্ন তথ্যও এখানেই দেখতে পাবেন।

6. Realtime/Simulation Bar : আপনি এর মাধ্যমে Realtime Mode এবং Simulation Mode এর মধ্যে toggle করতে পারবেন। Realtime Mode এ নেটওয়ার্কটি তৈরী করার পর Simulation Mode এ গিয়ে আপনি ডাটা প্যাকেট নেটওয়ার্কটির মধ্যে দিয়ে কিভাবে যাচ্ছে, কোথাও বাধা পাচ্ছে কিনা তা সকল তথ্য সহকারে দেখতে পারবেন।

7. Network Component Box : এই বক্স থেকে আপনি Workspace এ আপনার নেটওয়ার্কটি তৈরীর জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস এবং কম্পোনেন্টগুলো বাছাই করতে পারবেন। এই বক্সটি Device-Type Selection Box এবং Device-Specific Selection Box এই দুটি ভাগে বিভক্ত।

8. Device-Type Selection Box : এই বক্সে আপনি নেটওয়ার্কিং সকল ডিভাইস পাবেন। যেমন : পিসি, ক্যাবল, সুইচ, হাব, রাউটার, ক্লাউড ইত্যাদি।

9. Device-Specific Selection Box : Device-Type Selection Box থেকে একটি ডিভাইস সিলেক্ট করার পর Device-Specific Selection Box থেকে সেই ডিভাইসের নির্দিষ্ট একটি মডেল সিলেক্ট করতে পারবেন। যেমন : সুইচ ডিভাইসটি সিলেক্ট করার পর এই বক্সটি থেকে আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সুইচের যেকোন একটি মডেল বেছে নিতে পারেন।

10. User Created Packet Window : এই উইন্ডোটি ডাটা প্যাকেটগুলোকে একত্রিত করে দেখায়। আপনি নেটওয়ার্কটি ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য একাধিক ডাটা প্যাকেট দিতে পারেন যা এই উইন্ডোটিতে লিস্ট আকারে দেখাবে।

আমি যখন প্রথম এই নেটওয়ার্কিং টিউটোরিয়াল শুরু করেছিলাম, তখন ভেবেছিলাম এটি শুধুমাত্র দুটি পিসির LAN করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। আমি লেখার বিষয়বস্তু এবং উপস্থাপনা সেভাবে সহজ করার চেষ্টা করেছি, যাতে টেকনোলজি বিষয়ে অনভিজ্ঞ যে কেউ আমার লেখা পড়ে সাধারন মানের নেটওয়ার্কিং করতে পারেন। কিন্তু আপনাদের সবার আগ্রহ এবং অনুপ্রেরনার কারনে ধীরে ধীরে টিউটোরিয়ালটি বড় নেটওয়ার্ক তৈরীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন আমি প্রচুর ইমেইল পাই আপনাদের নেটওয়ার্কিং সমস্যার সমাধান চেয়ে, জানার আগ্রহ জানিয়ে এবং লেখার উৎসাহ দিয়ে। আমাকে অনেকেই নেটওয়ার্কিং বিষয়ে আরও এ্যাডভান্স বিষয় নিয়ে লিখতে অনুরোধ করেছেন। আমিও লিখতে আগ্রহী, কিন্তু সেটা হয়ত সবার জন্য আর সহজবোধ্য থাকবে না। তারপরও চেষ্টা করব এই সিরিজটি Continue করার। আগামী পর্বে আমি Packet Tracer সিমুলেটরটি দিয়ে আপনাদেরকে একটি পূনাঙ্গ প্রোজেক্ট তৈরী করে দেখাবো। Packet Tracer দিয়ে তৈরী একটি নেটওয়ার্কের মডেল হতে পারে নিচের ছবির মত :


আসুন সহজে পিসি-টু-পিসি LAN করি (পর্ব – ৫)

আজকের পর্ব : নেটওয়ার্কিং ডিভাইস পরিচিতি

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরী করার জন্য কম্পিউটার এবং ক্যাবল ছাড়াও আরও বেশ কিছু ডিভাইসের প্রয়োজন হয়। নেটওয়ার্ক তৈরী করার জন্য কোন ডিভাইসের কি কাজ, কোন ক্ষেত্রে কোন ডিভাইস ব্যবহার করতে হবে এবং ডিভাইসগুলোর মধ্যে পার্থক্য জানা প্রয়োজন। এ কারনে আমি অল্প কথায় সহজ ভাষায় নেটওয়ার্কিং ডিভাইসগুলোর পরিচিতি তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

প্রথমে OSI Layer সম্পর্কে কিছুটা ধারনা দেয়া প্রয়োজন, কারন এই লেয়ারগুলোর উপর ভিত্তি করেই নেটওয়ার্কিং ডিভাইসগুলো কাজ করে।



উপরের চিত্রে OSI Layer এর মডেল দেয়া আছে, যা ৭ টি স্তরে বিভক্ত। কোনো প্রেরক (Sender) ডিভাইস (যেমন: কম্পিউটার) থেকে ডাটা প্রবাহিত হওয়ার সময়, প্রেরক ডিভাইসের ডাটা উপরের লেয়ার থেকে নিচের লেয়ারের দিকে প্রবাহিত হতে থাকে। প্রতিটি লেয়ারে সেই ডাটাকে নিয়ে কিছু কাজ হয়, তারপর পরবর্তী লেয়ারে পঠিয়ে দেয়। এভাবে কোন ইউজার যখন কোন ডাটা পাঠায় তখন সেটি প্রথমে আসে এপ্লিকেশন লেয়ারে, এরপর প্রেজেন্টেশন, সেশন .... এভাবে চলতে চলতে ফিজিক্যাল লেয়ার পর্যন্ত। ফিজিক্যাল লেয়ারে এসে ডাটা পুরোপুরি মেশিন কোডে রুপান্তরিত হয়, যা ক্যাবলের মধ্যে দিয়ে গন্তব্যে পাঠানো হয়। গন্তব্যে পৌছে প্রাপক (Receiver) ডিভাইসটি ফিজিক্যাল লেয়ারে ডাটাটি গ্রহন করে উপরের দিকের লেয়ারে পাঠাতে থাকে এবং এপ্লিকেশন লেয়ারে পৌছানোর পর আমরা সেই ডাটাটি দেখতে পারি। এটাই মূলত OSI Layer এর কাজ। এখানে মনে রাখতে হবে, নেটওয়ার্কিং ডিভাইসগুলো শুধুমাত্র ফিজিক্যাল, ডাটা লিংক এবং নেটওয়ার্ক এই ৩ টি লেয়ারে কাজ করতে পারে।

NIC Card বা ল্যান কার্ড : NIC Card বা ল্যান কার্ডের সাথে আমরা সবাই পরিচিত, এটি কম্পিউটারের সাথে লাগানো থাকে এবং প্রতিটি ল্যান কার্ড দিয়ে একটি মাত্র কানেকশন লাগানো যায়। একাধিক কানেকশন ব্যবহারের প্রয়োজন হলে একই কম্পিউটারে একাধিক ল্যান কার্ডও চাইলে ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি ল্যান কার্ডে একটি নির্দিষ্ট ফিজিক্যাল এড্রেস থাকে যাকে ম্যাক এড্রেস (MAC Address) বলা হয়। এই ম্যাক এড্রেস প্রতিটি ল্যান কার্ডের জন্য তৈরী করার সময়ই নিদিষ্ট করে দেয়া থাকে, যা পরিবর্তন করা যায় না। এই ম্যাক এড্রেস ব্যবহার করা হয় OSI Layer এর ফিজিক্যাল লেয়ারে। রাউটিং এর জন্য এই ম্যাক এড্রেস খুবই গুরুত্বপূর্ন। এছাড়া ল্যান কার্ডে একটি লজিক্যাল এড্রেস বা আইপি এড্রেস বসাতে হয় যা নেটওয়ার্ক লেয়ারে কাজ করে।

হাব (Hub) : হাব একটি নেটওয়ার্ক ইন্টারকানেক্টিং ডিভাইস, যা ব্যবহার করে স্টার টপোলজি তৈরী করা যায়। হাব OSI Layer লেয়ারের শুধুমাত্র ফিজিক্যাল লেয়ারে কাজ করে।



হাব দামে সস্তা এবং সহজে ব্যবহার করা যায় তাই অনেকেই ছোট নেটওয়ার্কের জন্য হাব ব্যবহার করেন। কিন্তু সুবিধার পাশাপশি হাব ব্যবহারের বেশ কিছু অসুবিধাও আছে। যেমন : হাবের কোন নিজস্ব রাউটিং টেবিল নেই, যার কারনে সে তার সাথে সরাসরি যুক্ত নেটওয়ার্ক বা ডিভাইস চিনতে পারে না। তাই হাব যখন কোন ডাটা পায় তখন সে তার সাথে পোর্টে যুক্ত সবগুলো ডিভাইসকে সেই একই ডাটা কপি করে পাঠিয়ে দেয়। এরপর প্রাপক কম্পিউটারটি ছাড়া বাকি কম্পিউটারগুলো ডাটাটি পরীক্ষা করে যখন দেখে যে, এটি তার জন্য পাঠানো হয়নি তখন ডাটাটি ডিলিট করে দেয়। এভাবেই হাব যত ডাটা পায় তা তার সাথে পোর্টে যুক্ত সবাইকে পঠিয়ে দেয়, যা ডাটার সিকিউরিটি এবং মূল্যবান ব্যান্ডউইথ নষ্ট করে। বড় নেটওয়ার্কের মাঝে একটি হাব পুরো নেটওয়ার্কের ব্যান্ডউইথ কমিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। একারনে বর্তমানে হাবের ব্যবহার কিছুটা কমে এসেছে এবং এর বদলে কম দামের এক ধরনের সুইচের ব্যবহার বেড়েছে। এই সব সুইচের দাম ১০০০-১২০০ টাকার মধ্যে এবং হাবের চাইতে কিছুটা ভাল কাজ করে। তাই যারা ছোট নেটওয়ার্ক তৈরী করবেন তাদের জন্য এই সুইচ কেনাই সবচেয়ে ভাল হবে, ডি-লিংক এবং আসুস ব্রান্ডর সুইচগুলো বেশ ভাল কাজ করে দেখেছি।

সুইচ (Switch): সুইচ এবং হাব একই কাজ করলেও, সুইচ হাবের চাইতে উন্নত। সুইচ আর হাবের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সুইচের নিজস্ব রাউটিং টেবিল আছে। এই টেবিলে সে তার সাথে যুক্ত সকল নেটওয়ার্ক এবং নেটওয়ার্কে সংযুক্ত কম্পিউটারগুলোর ডাটা সংরক্ষন করে রাখে।



সুইচ যেহেতু ফিজিক্যাল এবং ডাটালিংক লেয়ারে কাজ করে তাই তার সাথে যুক্ত কম্পিউটারের ডাটা হিসেবে সে ল্যান কার্ডের MAC Address ব্যবহার করে। যখন একটি ডাটা সুইচের কাছে আসে সে তখন সেই ডাটাটির প্রাপক কম্পিউটারের MAC Address তার রাউটিং টেবিলের সাথে মিলিয়ে দেখে। মিলে গেলে প্রাপক কম্পিউটারটি সুইচের যে পোর্টের সাথে যুক্ত সেই পোর্ট দিয়ে ডাটাটি পাঠিয়ে দেয়। যার ফলে যেকোন ডাটা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট প্রাপক কম্পিউটারের কাছেই পৌছায়। সাধারন মানের সুইচ সবসময় একটি নেটওয়ার্ক নিয়েই কাজ করতে পারে। তবে ম্যানেজেবল সুইচকে VLAN (Virtual LAN) করে ভাগ করে একাধিক নেটওয়ার্কে কাজ করানো যায়। ম্যানেজেবল সুইচের দাম সাধারন সুইচের চাইতে অনেক বেশি, যেমন Cisco কোম্পানীর একটি ৮ পোর্টের ম্যানেজেবল সুইচের দাম ১৫ হাজার টাকার মত। তাই এগুলো শুধুমাত্র বড় এবং গুরুত্বপূর্ন নেটওয়ার্কে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে কিছু উন্নত প্রযুক্তির ৩ লেয়ারের সুইচ রয়েছে, যা নেটওয়ার্ক লেয়ার পর্যন্ত সরাসরি IP Address নিয়ে কাজ করতে পারে।

রাউটার (Router): রাউটার একটি ৩ লেয়ার ডিভাইস, অর্থাৎ এটি OSI Layer এর ফিজিক্যাল, ডাটালিংক এবং নেটওয়ার্ক লেয়ার নিয়ে কাজ করতে পারে। একারনে রাউটার নেটওয়ার্ক লেয়ারে IP Address নিয়ে কাজ করতে পারে।



রাউটার সাধারনত অনেকগুলো LAN (Local Area Network) কে যুক্ত করে WAN (Wide Area Network) তৈরী করতে সাহায্য করে। রাউটার Wired এবং Wireless এই দুই ধরনের হয়। ছবিতে একটি Wireless Router দেখানো হয়েছে। রাউটারের রাউটিং টেবিলে MAC Address এর বদলে থাকে IP Address এবং তার সাথে যুক্ত নেটওয়ার্কগুলোর সম্পর্কে সমস্ত রেকর্ড তার কাছে থাকে, যা দেখে সে সহজেই একটি ডাটা কোন পথ দিয়ে বা কোন পোর্ট দিয়ে যাবে তা নির্দেশ করতে পারে। শুধু তার সাথে সরাসরি যুক্ত নেটওয়ার্কগুলোই নয়, বরং দূরের কোন নেটওয়ার্কে ডাটা পৌছানোর জন্য কোন পথ দিয়ে ডাটাটি পাঠাতে হবে তাও রাউটার ঠিক করে দেয়। প্রতিটি রাউটার কিছু সেকেন্ড পর পর নিজেকে আপডেট করে নেয় এবং তার পার্শ্ববর্তী রাউটারগুলোকে সেই আপডেট মেসেজ পাঠায়, যা দেখে অন্য রাউটারগুলোও নিজেদের আপডেট করে নেয়। যেমন ধরুন একটি নেটওয়ার্ক বা ল্যান কোন কারনে রাউটার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, সেক্ষেত্রে রাউটারটি প্রথমে তার নিজের রাউটিং টেবিলটিকে আপডেট করে নেবে এবং তার পার্শ্ববর্তী রাউটারগুলোকে মেসেজ সেন্ড করে জানিয়ে দেবে যে এই ল্যানটি বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এ পুরো পক্রিয়াটি চালু রাখার জন্য বেশকিছু রাউটিং প্রোটোকল (Routing Protocol) রয়েছে যেমন : RIPv2, EIGRP, OSPF ইত্যাদি। প্রোটোকল হচ্ছে কিছু নিয়মের সমন্বয় যা ওই প্রোটোকলের আওতাধীন রাউটারগুলোকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন রাউটার একটি অত্যান্ত বুদ্ধিমান এবং উন্নতমানের ডিভাইস, এ কারনে এর দামটাও কিঞ্চিত বেশি।



সার্ভার (Server) : সার্ভার হচ্ছে একটি তথ্য ভান্ডার যেখানে তথ্য জমা থাকে এবং যখন কোন ক্লায়েন্ট তথ্য চায় তখন সাথে সাথে তাকে সেই তথ্য বা ডাটা সরবরাহ করা সার্ভারের কাজ। বর্তমানে অনেক ধরনের সার্ভার রয়েছে যেমন : ফাইল সার্ভার, ইমেইল সার্ভার, ডাটাবেজ সার্ভার, প্রক্সি সার্ভার, প্রিন্ট সার্ভার, ওয়েব সার্ভার ইত্যাদি।



নেটওয়ার্কের আকার বৃদ্ধির সাথে সাথে সার্ভারের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। প্রতিটি সার্ভার একটি নিদিষ্ট বিশেষ ধরনের কাজের জন্য। যেমন : ফাইল সার্ভারের কাজ হলো নেটওয়ার্ক ইউজারদের জন্য বিভিন্ন ফাইল শেয়ার করা যাতে ইউজাররা সহজে যেকোন সময় তাদের প্রয়োজনীয় ফাইলে প্রবেশ করতে পারে। ফাইল সার্ভারে চলে এমন এক নেটওয়ার্ক সার্ভিস যার মাধ্যমে কোন সার্ভার ডাটা স্টোর করা যায়, সেই ডাটা পড়া যায় এবং প্রয়োজনে অন্যত্র স্থানান্তর করা যায়। যেকোন সার্ভারের দুটি গুরুত্বপূর্ন অংশ স্টোরেজ মেমোরী এবং RAM। এ দুটো অংশ কতটা শক্তিশালী হবে তা নির্ভর করে এটি কি ধরনের কাজ করবে এবং কতজন ক্লায়েন্ট এটি ব্যবহার করবে তার উপর।

আসুন সহজে পিসি-টু-পিসি LAN করি (পর্ব – ৪)

আজকের পর্ব সাবনেটিং

আমার আগের কয়েকটি লেখায় বলেছিলাম কিভাবে ছোট আকারের নেটওয়ার্ক তৈরী করতে হয়। এবার আমি আলোচনা করব বড় আকারের নেটওয়ার্ক নিয়ে। বড় আকারের নেটওয়ার্ক তৈরীর সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্রতিটি কম্পিউটারের জন্য একটি করে IP Address বরাদ্দ করা। কারন IPv4 এ IP Address এর সংখ্যা সীমিত। প্রথম যখন ইন্টারনেট আবিস্কার হয় তখন কেউ কল্পনা করতে পারেনি যে এটি এতটা জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হবে, তখন ইন্টারনেট শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন ধরনের গবেষনার কাজে ব্যবহার করা হত। তাই ৩২ বিটের IPv4 Address কেই তারা ভেবেছিল যথেষ্ট। কিন্তু বর্তমানে সারা পৃথিবীতে ইন্টারনেট বিস্তৃত হওয়ায় IP Address সংকট দেখা দিয়েছে। তাই এই অল্প সংখ্যক IP Address নিয়েই আমাদের নেটওয়ার্ক তৈরী করতে হবে। এ কারনেই আমাদের সাবনেটিং এর প্রয়োজন হচ্ছে।

প্রথমে আমারা জানি যে, IPv4 Address কে ৪ টি ক্লাসে ভাগ করা হয়েছে, যা হলো :

CLASS A শুরু 0.0.0.0 থেকে 127.0.0.0 পর্যন্ত এবং সাবনেট মাস্ক 255.0.0.0
CLASS B শুরু 128.0.0.0 থেকে 191.0.0.0 পর্যন্ত এবং সাবনেট মাস্ক 255.255.0.0
CLASS C শুরু 192.0.0.0 থেকে 223.0.0.0 পর্যন্ত এবং সাবনেট মাস্ক 255.255.255.0
CLASS D শুরু 224.0.0.0 থেকে 239.0.0.0 পর্যন্ত [মাল্টিকাস্টের জন্য সংরক্ষিত]
CLASS E শুরু 240.0.0.0 থেকে 255.0.0.0 পর্যন্ত [রিসার্চের জন্য সংরক্ষিত]

এর মধ্যে Class A এড্রেস শেষ হয়ে গেছে এবং Class B এড্রেস প্রায় নিঃশেষ হয়ে গেছে, ইন্টারনিকের কাছে আবেদন করে সেই আবেদনের যথার্থতা প্রমান করতে পারলেই কেবল এই ক্লাসের IP পাওয়া যায়।

এর মধ্যে কিছু এড্রেস রাখা হয়েছে Private IP Address হিসেবে সেগুলো হচ্ছে :

CLASS A শুরু 10.0.0.0 থেকে 10.255.255.255 পর্যন্ত
CLASS B শুরু 172.16.0.0 থেকে 172.31.255.255 পর্যন্ত
CLASS C শুরু 192.168.0.0 থেকে 192.168.255.255 পর্যন্ত

বড় একটি নেটওয়ার্কের জন্য যদি আপনি প্রতিটি পিসির জন্য আলাদা আলাদা আইপি এড্রেস কিনতে চান তাহলে আপনার নেটওয়ার্কটি হবে অনেক ব্যায়বহুল এবং ইন্টারনিক আপনাকে এতগুলো আইপি দেবেও না। তাই বড় নেটওয়ার্ককে যদি ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত করতে চান তাহলে প্রথমে বড় নেটওয়ার্কটিকে ছোট ছোট নেটওয়ার্কে (সাবনেটে) ভাগ করুন এবং IP Address হিসেবে Private IP Address Range ব্যবহার করুন। কারন Private IP Address ফ্রি এবং Private Address দিয়ে আপনি হাজার হাজার কম্পিউটারে আইপি এড্রেস বসাতে পারবেন। তবে এই প্রক্রিয়ায় ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গেলে আপনাকে Router ব্যবহার করতে হবে। কারন প্রাইভেট আইপি দিয়ে সরাসরি ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হওয়া যায় না, রাউটার ব্যবহার করলেই প্রাইভেট আইপির সব কম্পিউটার রাউটারের গেইটওয়ে এড্রেস ব্যবহার করে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে।

এখন ছোট ছোট নেটওয়ার্কগুলোকে রাউটারের সাথে যুক্ত করলেই একটি বড় নেটওয়ার্ক দাড়িয়ে গেল। ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য রাউটারের আউটগোয়িং পোর্টে ইন্টারনিক থেকে কেনা Public IP Address বসিয়ে দিন। তাতে আপনার নেটওয়ার্কের জন্য এতগুলো Public IP কিনতে হচ্ছে না, জাস্ট একটি Public IP হলেই চলছে এবং নেটওয়ার্কের সিকিউরিটিও বাড়বে। কারন Public IP Address দিয়ে বাইরের কেউ Private Network এ ঢুকতে পারে না।

ছোট নেটওয়ার্কে (সাবনেট) ভাগ করা ছাড়া যেকোন হোস্ট এড্রেস হয় নিম্নরুপ :

নেটওয়ার্ক আইডি + হোস্ট আইডি

এখানে মনে রাখা প্রয়োজন যে ইন্টারনিক আমাদেরকে যে নেটওয়ার্ক আইডি দিচ্ছে সেটিকে আমরা পরিবর্তন করতে পারবো না। কিন্তু আমরা যেসব ছোট নেটওয়ার্ক (সাবনেট) তৈরী করব সেগুলোকে ভিন্নভাবে চিহ্নিত করা দরকার। তাই আমরা নেটওয়ার্কের বিটগুলোকে অপরিবর্তিত রেখে হোস্ট আইডির কিছু বিটকে ব্যবহার করতে হবে। সাবনেট যুক্ত যেকোন নেটওয়ার্কের আইপি এড্রেস হবে নিম্নরুপ :

নেটওয়ার্ক আইডি + সাবনেট আইডি + হোস্ট আইডি

এখানে হোস্ট আইডিকে ভেঙ্গে কিছু বিট সাবনেট আইডি হিসেবে নেয়া হয়েছে। কিন্তু নেটওয়ার্ক আইডি অপরিবর্তিত রয়েছে।

সাব-নেটওয়ার্ক এড্রেস বের করার একটি পদ্ধতি হচ্ছে Binary ANDing। ANDing করার নিয়ম হচ্ছে :

1 AND 1 = 1
1 AND 0 = 0
0 AND 1 = 0
0 AND 0 = 0

একটি আইপি এড্রেস কোন সাবনেটের অন্তর্ভুক্ত তা বের করার জন্য Binary ANDing ব্যবহার করা হয়। নিচের ছবিটি লক্ষ করুন :



উপরের ছবিতে IP Address দেয়া হয়েছে 192.100.10.33 এবং সাবনেট মাস্ক দেয়া হয়েছে 255.255.255.0 এরপর আইপি এড্রেস আর সাবনেট মাস্ককে বাইনারি নম্বরে পরিবর্তন করে ANDing করতেই রেজাল্টে সাব-নেটওয়ার্ক এড্রেস 192.100.10.0 বের হয়ে এসেছে। এই ফর্মুলা ব্যবহার করে যে কোন আইপি কোন সাবনেট বা নেটের অন্তর্ভূক্ত তা বের করা সম্ভব।

এবারে আসুন দেখা যাক কিভাবে একটি বড় নেটওয়ার্কের জন্য IP Address সরবরাহ করবেন। প্রথমে কিছু প্রশ্নের উত্তর খুজুন।

১। আপনি কতগুলো কম্পিউটারের জন্য IP Address খুজছেন?
২। আপনার বড় নেটওয়ার্কটিকে কতগুলো ছোট নেটওয়ার্কে (সাবনেট) ভাগ করতে চান?
৩। আপনার নেটওয়ার্কে কি ইন্টারনেট থাকবে নাকি শুধুমাত্র অভ্যন্তরীন কাজে ব্যবহার হবে?

উত্তরগুলো জেনে নিন। এখানে একটি বড় নেটওয়ার্ককে ছোট ছোট নেটওয়ার্কে ভাগ করে নেয়া সুবিধাজনক, কারন ধরুন আপনি একটি বিল্ডিং এর সবগুলো তলা নিয়ে বড় নেটওয়ার্ক তৈরী করছেন। এখানে যদি প্রতিটি তলা ছোট ছোট নেটওয়ার্কে ভাগ করা থাকে তবে তা আপনার জন্য সেটাপ+মেইনটেইন করা সুবিধাজনক।

ধরুন, আপনি 180 টি কম্পিউটার নিয়ে বড় একটি নেটওয়ার্ক তৈরী করতে চান। যেখানে সাবনেট থাকবে 6 টি এবং প্রতিটি সাবনেটে হোস্ট কম্পিউটার থাকবে কমপক্ষে 30 টি। IP Address দেয়া হলো 192.168.16.0 এবং সাবনেট 255.255.255.0। কিভাবে করবেন?

কাগজ কলম নিয়ে হাতে সাবনেট ক্যালকুলেশন করার প্রকিয়া কিছুটা জটিল এবং নতুনদের জন্য সমস্যার। তাই আমি আপনাদের সাবনেট ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে সাবনেট হিসাব করার জন্য বলছি। এখান থেকে Subnet Calculator Software টি ডাউনলোড করে নিন। ইন্সটল করুন এবং রান করান, নিচের উইন্ডোটি আসবে।



এখানে IP বক্সে 192.168.16.0 লিখুন। এবার Max Subnets এ 6 দিন এবং Max hosts এ 30 বসান।



এবার সার্চ বাটনটিতে ক্লিক করুন। নিচের উইন্ডোটি পাবেন।



এখানে 6 টি নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক এড্রেস, ওই সাবনেটের রেঞ্জ এবং ব্রডকাস্ট এড্রেস দেয়া আছে। এখান থেকে টুকে নিয়ে কম্পিউটারে এড্রেসগুলো বসিয়ে দিলেই হবে। তবে মনে রাখতে হবে, নেটওয়ার্ক এড্রেস অর্থাৎ প্রথম আইপি এড্রেসটি এবং ব্রডকাস্ট এড্রেস অর্থাৎ শেষের আইপি এড্রেসটি আপনি কোন কম্পিউটারে ব্যবহার করতে পারবেন না। মাঝের সাবনেট রেঞ্জ এ যে এড্রেসগুলো দেয়া আছে ওগুলোই শুধু ব্যবহার করা যাবে।

এভাবে যেকোন আইপির জন্য সাবনেট তৈরী করা সম্ভব।

হাতে-কলমে সাবনেটিং শিখতে চাইলে, আমার কাছে একটি বই আছে যা পড়ে দেখতে পারেন। ডাউনলোড লিংক : Click This Link

এর পরের লেখায় আলোচনা করব সিমুলেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভার্চুয়াল ভাবে নেটওয়ার্ক তৈরী করে পরীক্ষা করার পদ্ধতি এবং নেটওয়ার্কের ত্রুটি খুজে বের করা।

আসুন সহজে পিসি-টু-পিসি LAN করি (পর্ব – ৩)

আজকের পর্ব : ওয়ার্কগ্রুপ তৈরী এবং ইন্টারনেট, ডাটা ও প্রিন্টার শেয়ারিং।

আমি আগে ২টি পর্বে আপনাদেরকে দেখিয়েছি কিভাবে নেটওয়ার্কিং করার জন্য হার্ডওয়্যার প্রস্তুত করতে হয় এবং IP Addressing এর নিয়মাবলী। এবার দেখাবো নেটওয়ার্কের জন্য ওয়ার্কগ্রুপ তৈরী করার নিয়ম এবং সার্ভার কম্পিউটারটির ইন্টারনেট শেয়ারিং, যাতে অন্য কম্পিউটারগুলো ইন্টারনেট ব্যবহার এবং ফাইল শেয়ারিং করতে পারে। সার্ভার (Server) শব্দটি শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এই সার্ভার আর ওয়েব সার্ভার এক জিনিষ নয়। এখানে সার্ভার হচ্ছে শুধুমাত্র ইন্টারনেট গেইটওয়ে সার্ভার যা যেকোন সাধারন কম্পিউটার হতে পারে।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, ইন্টারনেট যুক্ত নেটওয়ার্কে যে কম্পিউটারটি সরাসরি ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত সেই কম্পিউটারটিকে Server হিসেবে ব্যবহার করব এবং বাকি সকল কম্পিউটারকে Client হিসেবে ব্যবহার করব। সকল কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য সার্ভার কম্পিউটারটি সব সময় চালু রাখতে হবে। সার্ভার কম্পিউটারটি বন্ধ করলে নেটওয়ার্কের অন্যান্য কম্পিউটার ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে না, তবে নিজেদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং/ফাইল শেয়ারিং চালু থাকবে। যদি ইন্টারনেট সংযোগ না থাকে তবে নেটওয়ার্কে সার্ভারের কোন প্রয়োজন নেই, তখন সব পিসিই হবে ক্লায়েন্ট।

Control Panel > Network Connections এ গিয়ে সাইড ম্যানু থেকে Setup a home or small office network লিংকে ক্লিক করুন।



Network Setup Wizard উইন্ডোটি ওপেন হবে।



Network Setup Wizard এ Next বাটন প্রেস করুন। নিচের উইন্ডোটি আসবে।



এখানে Select a connection method অংশে আপনি কি ধরনের Connection Setup করতে চান তা সিলেক্ট করে দিতে হবে। যেমন : আপনার এই কম্পিউটারটি যদি সার্ভার (Server) করতে চান তবে প্রথম অপশনটি (This Computer connects directly to the internet…..) সিলেক্ট করুন, আর ক্লায়েন্ট (Client) করতে চাইলে দ্বিতীয় অপশনটি (This computer connects to the internet through a residential gateway…..) সিলেক্ট করুন। এরপর Next দিন। নিচের উইন্ডোটি আসবে :



এটি শুধু সার্ভার সেটাপের সময় আসবে ক্লায়েন্ট সেটাপে আসবে না। সার্ভার হিসেবে আমরা যে কম্পিউটারটি নিয়েছি তার ইন্টারনেট কানেকশনটি এখানে দেখিয়ে দিতে হবে। যেমন : আমি Nokia EDGE Modem দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করি বলে Nokia Bluetooth Modem সিলেক্ট করেছি। আবার Next ক্লিক করুন, নিচের উইন্ডো আসবে :



এখানে আপনি আপনার কম্পিউটারের জন্য একটি নাম দিয়ে দিতে পারেন। কম্পিউটারের নাম দিয়ে Next দিন।



এখানে Workgroup Name অংশে Workgroup এর জন্য একটি নাম দিন, প্রতিটি কম্পিউটারের জন্য আলাদা আলাদা নাম দেয়া ভালো। তাতে করে পরে My Network Places এ গিয়ে ঔ কম্পিউটারটি খুজে বের করতে সুবিধে হবে। Next ক্লিক করুন।



এখানে আপনার কাছে জানতে চাইবে আপনি নেটওয়ার্কের অন্য কম্পিউটারগুলোর সাথে ফাইল এবং প্রিন্টার শেয়ার করতে চান কিনা। যদি চান তবে Turn On File & Printer Sharing সিলেক্ট করুন অথবা Turn off করে রাখুন। এরপর Next দিতে থাকুন এবং শেষে Finish দিয়ে বের হয়ে আসুন।

ব্যাস্..... এ পর্যন্ত এসে Workgroup তৈরী এবং ইন্টারনেট শেয়ারিং শেষ।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখবেন, অনেক সময় Windows Firewall অন থাকলে আপনাকে নেটওয়ার্কের ফাইল শেয়ারিং করতে দেবে না। উইন্ডোজের এই ফায়ারওয়াল জঘন্য, এটি চোখ বন্ধ করে নেটওয়ার্কের সব শেয়ারিং বন্ধ করে দেয়। ফায়ারওয়াল ব্যবহার করতে চাইলে আলাদাভাবে ফায়ারওয়াল সফটওয়্যার ব্যবহার করুন।

এখন নেটওয়ার্কে যদি Printer যুক্ত থাকে এবং সেই প্রিন্টারটি যদি নেটওয়ার্কে যুক্ত সব কম্পিউটার ব্যবহার করতে চায় তাহলে সেই প্রিন্টারটিকে শেয়ার করে দিতে হবে। বাজারে এখন আধুনিক IP Address যুক্ত প্রিন্টার পাওয়া যায়। এই প্রিন্টারগুলোকে IP Address দিয়ে দিলেই নেটওয়ার্কের সব কম্পিউটার প্রিন্টারটিকে প্রিন্ট কমান্ড দিতে পারে। শেয়ারিং করার দরকার হয় না।
তবে সাধারন লেজার, বাবল জেট বা ডটমেট্রিক্স প্রিন্টারগুলোতে IP Address সেট করা যায় না তাই এগুলোকে শেয়ারিং করতে হয় সরাসরি যুক্ত কম্পিউটারটির সাহায্যে। যেমন : আপনার লেজার কম্পিউটারটি যে কম্পিউটারটির সাথে সরাসরি যুক্ত সেই কম্পিউটারটির Control Panel > Printers & Faxes এ গিয়ে আপনি যে প্রিন্টারটি শেয়ার করবেন সেই প্রিন্টারটি সিলেক্ট করুন।



এবার সাইড ম্যানু থেকে থেকে Share this printer ক্লিক করুন। নিচের উইন্ডোটি আসবে :



এখানে Share Name এ প্রিন্টারটির নাম দিন। Apply দিয়ে বের হয়ে আসুন। এতেই প্রিন্টারটি নেটওয়ার্কের সব কম্পিউটারের জন্য শেয়ার হয়ে যাবে। এখন অন্যান্য কম্পিউটারগুলোতে Control Panel > Printers & Faxes এ গিয়ে Add a Printer এ ক্লিক করুন। Next দিয়ে নিচের উইন্ডোটি পাবেন :



এখান থেকে A network printer, or a printer attached to another computer সিলেক্ট করে Next দিন। নিচের উইন্ডোটি আসবে :



এখানে Browse for a printer সিলেক্ট করে Next দিন এবং ব্রাউজ করে আপনার নেটওয়ার্কে যুক্ত প্রিন্টারটি দেখিয়ে দিন। ব্যাস... এতেই আপনি ওই প্রিন্টারটি ব্যবহার করতে পারবেন।

ফাইল শেয়ারিং করার জন্য যেকোন ফোল্ডার, ড্রাইভার বা সিডি/ডিভিডি রম (যেটি আপনি শেয়ার করতে চান) সিলেক্ট করে Mouse Right Button ক্লিক করে Properties এ যান। নিচের উইন্ডোটি আসবে :



এখানে Share this folder on the network এ টিক দিন এবং ফোল্ডারটির নাম দিন। এতে এই ফোল্ডারটি নেটওয়ার্কের সব কম্পিউটারের জন্য Read Only হিসেবে দেখাবে অর্থাৎ নেটওয়ার্কের সবাই ফোল্ডারটি দেখতে পারবে, Copy করতে পারবে কিন্তু Delete, Cut বা Edit করতে পারবে না। যদি আপনি অন্য কম্পিউটারগুলোকেও ফোল্ডারটি Delete, Cut, Edit করার পারমিশন দিতে চান তাহলে Allow Network users to change my files এ টিক দিয়ে দিন। ব্যাস... ফাইল/ফোল্ডার শেয়ারিং শেষ।

এবার দেখাবো কিভাবে শেয়ারিং ফোল্ডার নেটওয়ার্কের অন্য কম্পিউটার থেকে খুজে বের করবেন। Start Menu থেকে My Network Places এ ক্লিক করুন।



এরপর সাইড ম্যানু থেকে View Workgroup Computers এ ক্লিক করুন। Up দিয়ে Microsoft Windows Network এ যান। সেখানে আপনার নেটওয়ার্কে যুক্ত সব কম্পিউটারগুলোর ওয়ার্কগ্রুপ দেখাবে, ওয়ার্কগ্রুপগুলোর নাম হবে আপনি ওয়ার্কগ্রুপ সেটআপের সময় যে নাম দিয়েছেন সেই নামটি। এবার যেকোন ওয়ার্কগ্রুপে ঢুকলে ওই কম্পিউটারের সব শেয়ারিং ফাইল/ফোল্ডার দেখতে পাবেন।

আপনি যদি এই পর্যন্ত আমার লেখাগুলো বুঝতে পারেন তাহলে আশাকরি আপনি ছোটখাটো যেকোন নেটওয়ার্ক তৈরী করতে পারবেন।

আসুন সহজে পিসি-টু-পিসি LAN করি (পর্ব – ২)

প্রথম পর্বে আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছিলাম কিভাবে ল্যান নেটওয়ার্কিং এর জন্য ক্যাবল এবং স্টার টপোলজি প্রস্তুত করতে হয় অর্থাৎ আমরা হার্ডওয়্যার অংশ প্রস্তুত করা শিখেছি, এবার ইন্সটলেশনের পালা। UTP ক্যাবলগুলো পিসিগুলোতে কানেক্ট করে কম্পিউটারগুলো চালু করুন। এখন ইন্সটলেশনের প্রথম ধাপে প্রতিটি কম্পিউটারের জন্য একটি করে IP Address দিতে হবে। আমরা সাধারনত IP Address হিসেবে IPv4 ব্যবহার করি এটি ৩২ বিটের একটি বাইনারি (Binary) নম্বর। প্রতিটি ওয়ার্কগ্রুপের (Workgroup) সকল কম্পিউটারের জন্য আলাদা আলাদ IP Address দিতে হবে। একই এড্রেসের দুটি কম্পিউটার একই নেটওয়ার্কে কখনও থাকতে পারবে না।

আসুন এবার IP Address নিয়ে কিছুটা আলোচনা করি। ৩২ বিটের IP Address এর উদাহরন নিচে দিলাম :

11000000.10101000.00000000.00000001 (বাইনারি ফরমেট)

তবে আমাদের সহজে বোঝা এবং লেখার সুবিধার জন্য IP Address কে বাইনারি ফরমেটে না লিখে ডেসিমেল ফরমেটে লিখা হয়। যা নিম্নরুপ :

192.168.0.1 (ডেসিমেল ফরমেট)

উপরে এই পুরোটা নিয়ে একটি এড্রেস। এখানে যে ডট (.) দিয়ে আলাদা করা ৪ টি সংখ্যা দেখছেন, প্রতিটি সংখ্যা ৮ বিটের বাইনারি সংখ্যাকে প্রকাশ করছে। IP address এর সর্বত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে একে ৫টি ক্লাসে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে :

CLASS A শুরু 0.0.0.0 থেকে 127.0.0.0 পর্যন্ত এবং সাবনেট মাস্ক 255.0.0.0
CLASS B শুরু 128.0.0.0 থেকে 191.0.0.0 পর্যন্ত এবং সাবনেট মাস্ক 255.255.0.0
CLASS C শুরু 192.0.0.0 থেকে 223.0.0.0 পর্যন্ত এবং সাবনেট মাস্ক 255.255.255.0
CLASS D শুরু 224.0.0.0 থেকে 239.0.0.0 পর্যন্ত [মাল্টিকাস্টের জন্য সংরক্ষিত]
CLASS E শুরু 240.0.0.0 থেকে 255.0.0.0 পর্যন্ত [রিসার্চের জন্য সংরক্ষিত]

এখানে 127.0.0.0 কে লুপ ব্যাক এড্রেস বলা হয়, অর্থাৎ এটি কম্পিউটারকে নিজের নেটওয়ার্কই নির্দেশ করে যা টেস্টিং এর জন্য ব্যাবহৃত হয়।

এর মধ্যে প্রাইভেট IP Address গুলো হচ্ছে :
CLASS A শুরু 10.0.0.0 থেকে 10.255.255.255 পর্যন্ত
CLASS B শুরু 172.16.0.0 থেকে 172.31.255.255 পর্যন্ত
CLASS C শুরু 192.168.0.0 থেকে 192.168.255.255 পর্যন্ত

এই এড্রেসগুলো শুধুমাত্র অভ্যন্তরীন নেটওয়ার্ক তৈরীর জন্য রাখা হয়েছে। তাই এইসব প্রাইভেট IP Address গুলো দিয়ে আমরা আমাদের নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীন নেটওয়ার্ক তৈরী করতে পারব কিন্তু এই Address গুলো দিয়ে সরাসরি ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হওয়া যাবে না।

খুব বেশী কি জটিল মনে হচ্ছে? তাহলে একটু সহজ করে দেই.... প্রথমে Control Panel > Network Connections > Local Area Connection (ল্যান কার্ড ইন্সটল থাকতে হবে) এ ক্লিক করুন। নিচের উইন্ডোটি আসবে।



এখান থেকে Internet Protocol (TCP/IP) সিলেক্ট করে Properties বাটন ক্লিক করুন। সেখানে নিচের উইন্ডোটি পাবেন:



এবার IP Address এবং Subnet Mask বসান। আপনি যদি নিজেদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং করতে চান সেক্ষেত্রে প্রাইভেট IP Address ব্যবহার করা উচিত। তাই প্রথম কম্পিউটারটির IP Address দিন 192.168.0.1, তারপরেরটি 192.168.0.2,...... এভাবে 192.168.0.254 পর্যন্ত ক্রমানুসারে প্রতিটি কম্পিউটারে IP Address বসাতে থাকুন। এক্ষেত্রে সাবনেট মাস্ক (Subnet Mask) সব কম্পিউটারে হবে একই 255.255.255.0 । ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত না হতে চাইলে IP Address এবং Subnet Mask বসানোই যথেষ্ট।

তবে আপনার নেটওয়ার্কটিকে যদি ইন্টারনেটের সথে যুক্ত করতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে অতিরিক্ত Gateway Address এবং DNS Server Address বসাতে হবে। যে কম্পিউটারটি সরাসরি ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত, সেই কম্পিউটারটির জন্য ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডারদের দেয়া Gateway Address এবং DNS Server Address বসাতে হবে (যদি GPRS Modem ব্যবহার করেন তবে Gateway Address বা DNS Server Address বসাতে হবে না)। ইন্টারনেট যুক্ত এই কম্পিউটারটিকে সার্ভার হিসেবে ব্যবহার করে অন্য কম্পিউটারগুলো ইন্টারনেট ব্যবহার করবে তাই অন্য কম্পিউটারগুলোর (Client) জন্য Gateway Address এবং DNS Server Address হবে সার্ভার কম্পিউটারের IP Address। বোঝাতে পারলাম কি??

এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, ইন্টারনেট যুক্ত নেটওয়ার্কে যে কম্পিউটারটি সরাসরি ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত সেই কম্পিউটারটিকে Server হিসেবে ব্যবহার করব এবং বাকি সকল কম্পিউটারকে Client হিসেবে ব্যবহার করব। সকল কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য সার্ভার কম্পিউটারটি সব সময় চালু রাখতে হবে। সার্ভার কম্পিউটারটি বন্ধ করলে নেটওয়ার্কের অন্যান্য কম্পিউটার ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে না, তবে নিজেদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং/ফাইল শেয়ারিং চালু থাকবে। যদি ইন্টারনেট সংযোগ না থাকে তবে নেটওয়ার্কে সার্ভারের কোন প্রয়োজন নেই, তখন সব পিসিই হবে ক্লায়েন্ট।

২য় পর্বে আমি চেষ্টা করেছি সহজে সবাইকে IP Addressing বোঝানোর, তারপরও নেটওয়ার্কিং এর মত বিশাল একটি বিষয়কে সংক্ষেপে বোঝাতে গিয়ে অনেক কিছু সংক্ষিপ্ত করতে হয়েছে।

আসুন সহজে পিসি-টু-পিসি LAN করি (পর্ব – ১)

LAN বলতে Local Area Network বোঝানো হয়। এই LAN দুটি পিসি থেকে শুরু করে ছোট পরিসরে অসংখ্য পিসির মধ্যে হতে পারে। শুধু পিসিই নয় LAN এ যুক্ত হতে পারে প্রিন্টার, আইপি ফোন, সার্ভারসহ IP সাপোর্ট করে এমন যেকোন ডিভাইস। আপনি এই LAN কে চাইলে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত করতে পারেন অথবা শুধুমাত্র নিজেদের মধ্যে ফাইল বা কন্টেন্ট শেয়ারিং এর মধ্যেও সীমাবদ্ধ রাখতে পারেন। এখন অনেকেই মাল্টিপ্লেয়ার গেমসের সাথে পরিচিত, ল্যান করে মাল্টিপ্লেয়ার গেমস খেলার মজাই আলাদা।

আসুন এবারে দেখা যাক LAN তৈরী করার জন্য আপনার কি কি জিনিষ লাগবে :
১। UTP LAN Cable (CAT6 হলে ভালো, না হলে CAT5 হলেও চলবে)।



২। RJ45 Connector (Micronet এরটা বেশ ভালো)।



৩। ক্রিমপার (Crimper)।



৪। মাদারবোর্ডের বিল্ট-ইন LAN পোর্ট অথবা LAN Card।



৫। হাব (HUB) অথবা সুইচ (Switch) [যদি দুই এর অধিক পিসির মধ্যে LAN করতে চান]।

প্রথমে ধরে নিচ্ছি আপনি দুটি পিসির ভেতরে ল্যান করবেন। সেক্ষেত্রে আপনি প্রথমে আপনার দুটি পিসির মধ্যে দূরত্ব অনুযায়ী UTP Cable কেটে নিন। UTP Cable এর সবোচ্চ দূরত্ব ১০০ মিটার। এর বেশী দূরত্ব হলে মাঝে ১০০ মিটার পরপর হাব অথবা সুইচ ব্যবহার করতে হবে। Cable এর মাপ নেয়া হয়ে গেলে ক্যাবল কাটার জন্য Crimper ব্যবহার করুন। Cable কাটার পরে কভারটি সরালেই ভেতরে আরও ৪ জোড়া চিকন ক্যাবল দেখতে পাবেন। এদের রং হচ্ছে কমলা, নীল, সবুজ, খয়েরী। এটি যদি CAT6 ক্যাবল হয় তবে এর ভেতরে বাড়তি একটি প্লাস্টিকের দন্ড থাকে।

এবার ক্যাবলের দুই প্রান্তে কানেক্টর লাগানোর পালা, 8B RJ45 Connector দুভাবে সাজিয়ে লাগানো যায়। একটি হচ্ছে T568A এবং অন্যটি T568B। নিচের চিত্রটি লক্ষ করুন।



চিত্রে ১ নং পিন থেকে ৮ নং পিন পর্যন্ত ক্যাবল সাজানোর কৌশল দেয়া আছে। আপনি যদি একই ধরনের ডিভাইস (যেমন : পিসি টু পিসি অর্থাৎ দুটি কম্পিউটারের মধ্যে) LAN করেন, তাহলে আপনাকে Crossover Cable করে ডিভাইস দুটি কানেক্ট করতে হবে। অর্থাৎ ক্যাবলের একপ্রান্তে কানেক্টরের বিন্যাস হবে T568A এর মত এবং অন্যপ্রান্তের কানেক্টরটির বিন্যাস হবে T568B এর মত। নিচের চিত্রে Crossover Cable তৈরী করার একটি উদাহরন দেয়া হলো।



কিন্তু আপনি যদি ভিন্ন ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করেন (যেমন: পিসি টু সুইচ) সেক্ষেত্রে Straight Through Cable দিয়ে ডিভাইসগুলোকে কানেক্ট করতে হবে। অর্থাৎ তখন ক্যাবলের দুই প্রান্তের কানেক্টরেরই বিন্যাস হবে T568A অথবা T568B যেকোন এক ধরনের। নিচের চিত্রের Straight Through Cable এর উদাহরনটি লক্ষ্য করুন।



কখন Straight Though আর কখন Crossover ব্যবহার করবেন এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমি নিচে একটি তালিকা দিচ্ছি :

straight-through cables ব্যবহার করুন :
১। Switch to router
২। Computer to switch
৩। Computer to hub

Crossover cables ব্যবহার করুন :
১। Switch to switch
২। Switch to hub
৩। Hub to hub
৪। Router to router
৫। Computer to computer
৬। Computer to router

৮টি চিকন ক্যাবল চিত্রের মত করে সাজানো হয়ে গেলে ক্যাবলগুলোর মাথা Crimper এর সাহায্যে কেটে সমান করে নিন। এবার ধীরে যত্নসহকারে ক্যাবলগুলোকে একই সাথে কানেক্টরে ঢোকান, খেয়াল রাখবেন কানেক্টরের ভেতরে একটি ক্যাবল যেন অন্য আর একটির ওপর ওভারল্যাপ না করে। ঢোকানো হয়ে গেলে কানেক্টরের ওপর দিক থেকে তাকিয়ে দেখুন সবগুলো তার জায়গামত বসেছে কিনা এবং শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌছেছে কিনা। যদি সবকিছু ঠিক থাকে তবে কানেক্টরটিকে Crimper এর 8B Connector ছিদ্রে বসিয়ে লিভারে চাপ দিন। কট্ করে একটি শব্দ শোনার আগ পর্যন্ত চাপ দিতে থাকুন। ব্যাস, আপনার ক্যবলে কানেক্টর লাগানো শেষ।

এখন আপনি যদি দুইয়ের অধিক কম্পিউটার ল্যানে যুক্ত করতে চান, সেক্ষেত্রে আপনাকে হাব অথবা সুইচ ব্যবহার করতে হবে। হাব এবং সুইচ দুটিই প্রায় একই কাজ করে যদিও সুইচ হাব অপেক্ষা দ্রুত এবং নিরাপদ। কিন্তু হাবের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় এবং ছোট নেটওয়ার্কে হাব এবং সুইচের পারফরমেন্স প্রায় একই হওয়ায় অনেকেই এখনও হাব ব্যবহার করেন। বাজারে ৮ পোর্টের DLink সুইচের দাম পড়বে ১২০০/= টাকার মত। এটি সাধারন মানের Switch, এর চাইতে ভালো পারফরমেন্স চাইলে Manageable Switch ব্যবহার করতে হবে যার দাম ১৫,০০০/= টাকা যা ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়। ৮ পোর্টের সুইচ দিয়ে আপনি ৮ টি পিসিকে কানেক্ট করে নেটওয়ার্ক তৈরী করতে পারবেন। এর চাইতেও বেশী কম্পিউটার নেটওয়ার্কে কানেক্ট করার প্রয়োজন হলে অধিক পোর্টের সুইচ অথবা একাধিক সুইচ ব্যবহার করতে পারবেন। সুইচ ব্যবহার করে স্টার টপোলজি নেটওয়ার্কের চিত্র নিচে দেয়া হলো।



উপরের চিত্রটি লক্ষ্য করুন, এখানে মাঝখানে যে ডিভাইসটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি হচ্ছে Switch আর তার চারপাশে পিসি এবং অন্যান্য IP Device গুলো রয়েছে। স্টার টপোলজিতে কম্পিউটার বা অন্যান্য ডিভাইসগুলো সুইচ বা হাবকে কেন্দ্রে রেখে পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে। নেটওয়ার্কের একটি পিসি থেকে অন্য পিসিতে ডাটা পাঠাতে গেলে ডাটাটি প্রথমে সুইচে যাবে তারপর সুইচ বলে দেবে কোন পোর্ট দিয়ে গেলে গন্তব্যের (Destination) পিসিতে পৌছানো যাবে, তখন ডাটাটি সেই পোর্ট দিয়ে গন্তব্যের (Destination) কম্পিউটারে পৌছে যাবে। অর্থাৎ স্টার টপোলজিতে সুইচ বা হাব সবসময় ভায়া হিসেবে কাজ করছে। সুতরাং যদি আপনি সুইচ বা হাবটি বন্ধ করে রাখেন, তাহলে আপনার পুরো নেটওয়ার্কই বন্ধ হয়ে থাকবে। কারন সুইচ দিয়েই পিসিগুলো কমিউনিকেট করছে।এখানে মনে রাখবেন, পিসি থেকে সুইচ পর্যন্ত Straight-through Cable ব্যবহার করতে হবে। কারন সুইচ এবং পিসি ভিন্ন ধরনের ডিভাইস। সাধারন সুইচে কোন ধরনের কনফিগারেশনের প্রয়োজন হয় না।

শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১১

Free Qubee & BanglaLion Unlimited Download!!! Hack

কেনা চায় ইচ্ছা মত ডাউনলোড করার স্বাধীনতা। আর যারা কিনা প্রি পেইড এ আছেন তাদের ৪০০ বা ৭০০ টাকায় যেপরিমান নেট দেয় তা না দেয়ার মতই। আমার এই টিউনটা মূলত প্রি পেইড গ্রাহকদের জন্য দেয়া হচ্ছে এবং আমি প্রিপেইড এ এটা করে সাকসেস হয়েছি। তবে যারা পোস্টপেইড ৬ বা ১২ জিবি চালাচ্ছেন তাদেরও কাজ করবে আশা করি। 

কিউবি এবং বাংলালায়ন বাংলাদেশে ভাল ইন্টারনেট সেবা আনলেও Fair Usage পলিসি দিয়ে আমাদের

রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১১

"সর্বকালের সেরা ৫০০ গানের লিস্ট"


পৃথিবী বিখ্যাত সঙ্গীত বিষয়ক ম্যাগাজিন 'Rolling Stone' তাদের ৯৬৩ নাম্বার ইস্যুতে 'সর্বকালের সেরা ৫০০ গান'- এর একটি লিস্ট প্রকাশ করে যা ২০০৪ এর ৯ ডিসেম্বর পৃথিবীব্যাপী প্রকাশিত হয়। এই লিস্টটি পৃথিবীর ১৭২ জন মিউজিসিয়ান, মিউজিক বিশেষজ্ঞ, ও মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির সেরা কিছু লোকদের দ্বারা তৈরি। মাঝখানে কিছু নাম্বার টেকনিক্যাল কারনে বাদ পরেছে কারন সেগুলো নিয়ে এখনো চিন্তা-ভাবনা চলছে। যাই হোক, বিশাল এই লিস্ট সঙ্গীত-প্রেমিদের ভালো লাগবে আশা করি।